মোঃ আব্দুল মতিন
জেলা প্রতিনিধি।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীলফামারী জেলায় ২য় পর্যায়ে ১হাজার ২শত ৫০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে গৃহ প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার সকালে ভার্চুয়ালের মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত ৫৩হাজার ৩’শ ৪০টি পরিবারের জমিসহ গৃহ প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর গৃহ প্রদান কার্যক্রম শেষে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ও সদরের খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এলিনা আক্তারের সঞ্চালনায় জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী সুবিধাভোগীদের হাতে গৃহের চাবি ও জমির কবুলিয়ত তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাইদ মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান দীপক চক্রবর্তী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সান্তনা চক্রবর্তী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান মঞ্জুসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সুবিধা ভোগীদের মধ্যে মৃত ধীরেন্দ্র নাথ রায়ে ছেলে গোপাল রায় বলেন, আমি কখনো কল্পনাও করতে পারি নাই আমার মাথা গোঁজার ঠাই হবে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রোজগারের টাকা দিয়ে অন্যের জায়গায় একটি ছোট্ট ঝোপরি ঘরে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতে হতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মা আমাকে ঘরটি দেয়ায় আমি একটি মাথা গোঁজার ঠাই পেলাম। আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো নিজের জায়গায় একটা ঘর তোলা সেই স্বপ্ন আজকে পূরণ হয়েছে। ভগবান শেখ হাসিনা মাকে যুগ যুগ বেঁচে রাখুক।
সদরের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ভুটিয়ানের মৃতঞ্জয়ের ছেলে চিত্তরঞ্জন বলেন, অভাবের তারনায় সংসার চলে না। কে না ভালো জায়গায় একটু শান্তিমত ঘুমাতে চায়। আমরা ভূমিহীনরাও স্বপ্ন দেখি একটু শান্তিমত ঘুমাবো। কিন্তু নিয়তি আমাদের কপালে সেই সৌভাগ্য রাখে নাই। অন্যের জায়গায় থেকে শুধু ঘর বানানোর স্বপ্ন দেখে গেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই বিশেষ উপহারে আমি আজকে আনন্দে আত্মহারা।
জেলা প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ১১হাজার ২৮৫টি তালিকাভুক্ত পরিবারের মাঝে এর আগে প্রথম পর্যায়ে ৬৩৭টি পরিবারকে ঘর ও জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। আজকে ২য় পর্যায়ের ১২৫০টির মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া ১০১০টির চাবি ও জমি হস্তান্তর করা হবে। প্রথম পর্যায়ে নির্মিত একক গৃহে ব্যয় হয়েছিলো ১লাখ ৭০হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্যায় হচ্ছে ১লাখ ৯০ হাজার টাকা ।
জেলায় ১২৫০টি ঘরের মধ্যে নীলফামারী সদরে ২’শ ২০টি, সৈয়দপুরে ৬০টি, কিশোরগঞ্জে ১’শ ৭০টি, ডোমারে ৩’শ টি, ডিমলায় ২’শ টি এবং জলঢাকা উপজেলায় ৩’শ টি রয়েছে। প্রতিটি ঘরে ১লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যায়ে ৩৯৪বর্গফুটের ঘর নির্মান করা হয়েছে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা গৃহে একটি টয়লেট, একটি রান্না ঘর ও ইউটিলিটি স্পেস রয়েছে। আর ১ হাজার ২’শ ৫০টি পরিবারের জন্য জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২১একর ৭০শতাংশ ।
Leave a Reply